এক কিংবদন্তির পথচলা

বাংলা চলচ্চিত্রের মেগাস্টার উজ্জ্বল

শেখ আলহাজ্ব উদ্দিন
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৭৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সিরাজগঞ্জ এর সর্বশেষ ও জনপ্রিয় লেখা অনুসরণ করতে গুগল নিউজফিড দেখুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে ক’জন অভিনেতা দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে উজ্জ্বল অন্যতম। যার পুরো নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। রূপালি পর্দায় তিনি পরিচিত হয়েছেন কেবল এক নামেই— উজ্জ্বল। অভিনয়ের শক্তি, ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি ও চরিত্রের গভীরতায় তিনি হয়ে উঠেছেন সময়ের এক অনন্য তারকা।

 

১৯৪৬ সালের ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন উজ্জ্বল। শৈশব থেকেই শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। এই আগ্রহই এক সময় তাকে নিয়ে আসে চলচ্চিত্র জগতে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বিনিময়’-এর মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবন শুরু করেন। প্রথম ছবিতেই তার সাবলীল অভিনয় দর্শক ও নির্মাতাদের নজর কাড়ে।

 

আরো পড়ুন: সুরের জাদুকর সিরাজগঞ্জের সন্তান আলম খান

এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং প্রতিটি চরিত্রেই রেখে যান নিজস্ব স্বাক্ষর। নায়ক, প্রতিবাদী যুবক, রোমান্টিক চরিত্র কিংবা সমাজবাস্তব ঘরানার ভূমিকায়— সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।

 

উজ্জ্বলের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, ইয়ে করে বিয়ে, নালিশ, নিয়ত, নসিব, উসিলা, কারণ, বিশাল এবং বীরাঙ্গনা সখীনা। এসব ছবিতে তার অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয়তার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

 

শুধু অভিনয়েই নয়, পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন উজ্জ্বল। তিনি পরিচালনা করেছেন শক্তি পরীক্ষা, তীব্র প্রতিবাদ এবং পাপের শাস্তি— যা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের গভীরতা তুলে ধরে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দর্শকরা তাকে ভালোবেসে উপাধি দিয়েছেন— “মেগাস্টার উজ্জ্বল”। সময়ের পরিবর্তন হলেও তার অভিনীত চরিত্র, সংলাপ ও উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

বেহুলার স্মৃতি ঘেরা তাড়াশ হতে পারে ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র

সিরাজগঞ্জের এই কৃতী সন্তান বাংলা চলচ্চিত্রকে যে ভালোবাসা ও শ্রম দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, তার জন্য তিনি চিরকাল দর্শক হৃদয়ে এক কিংবদন্তি হয়েই থাকবেন।

লেখাটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এক কিংবদন্তির পথচলা

বাংলা চলচ্চিত্রের মেগাস্টার উজ্জ্বল

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে ক’জন অভিনেতা দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে উজ্জ্বল অন্যতম। যার পুরো নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। রূপালি পর্দায় তিনি পরিচিত হয়েছেন কেবল এক নামেই— উজ্জ্বল। অভিনয়ের শক্তি, ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি ও চরিত্রের গভীরতায় তিনি হয়ে উঠেছেন সময়ের এক অনন্য তারকা।

 

১৯৪৬ সালের ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন উজ্জ্বল। শৈশব থেকেই শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। এই আগ্রহই এক সময় তাকে নিয়ে আসে চলচ্চিত্র জগতে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বিনিময়’-এর মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবন শুরু করেন। প্রথম ছবিতেই তার সাবলীল অভিনয় দর্শক ও নির্মাতাদের নজর কাড়ে।

 

আরো পড়ুন: সুরের জাদুকর সিরাজগঞ্জের সন্তান আলম খান

এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং প্রতিটি চরিত্রেই রেখে যান নিজস্ব স্বাক্ষর। নায়ক, প্রতিবাদী যুবক, রোমান্টিক চরিত্র কিংবা সমাজবাস্তব ঘরানার ভূমিকায়— সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।

 

উজ্জ্বলের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, ইয়ে করে বিয়ে, নালিশ, নিয়ত, নসিব, উসিলা, কারণ, বিশাল এবং বীরাঙ্গনা সখীনা। এসব ছবিতে তার অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয়তার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

 

শুধু অভিনয়েই নয়, পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন উজ্জ্বল। তিনি পরিচালনা করেছেন শক্তি পরীক্ষা, তীব্র প্রতিবাদ এবং পাপের শাস্তি— যা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের গভীরতা তুলে ধরে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দর্শকরা তাকে ভালোবেসে উপাধি দিয়েছেন— “মেগাস্টার উজ্জ্বল”। সময়ের পরিবর্তন হলেও তার অভিনীত চরিত্র, সংলাপ ও উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

বেহুলার স্মৃতি ঘেরা তাড়াশ হতে পারে ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র

সিরাজগঞ্জের এই কৃতী সন্তান বাংলা চলচ্চিত্রকে যে ভালোবাসা ও শ্রম দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, তার জন্য তিনি চিরকাল দর্শক হৃদয়ে এক কিংবদন্তি হয়েই থাকবেন।