সিরাজগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

রেজওয়ান
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ৬৫৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সিরাজগঞ্জ এর সর্বশেষ ও জনপ্রিয় লেখা অনুসরণ করতে গুগল নিউজফিড দেখুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। এই মহকুমা থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতো। বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন সিরাজগঞ্জের তৎকালীন এস.ডি.ও. মি. এ. এইচ. কুরাইশী, আই.সি.এস.

১৯৩০ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর সভাপতিত্বে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিরাজগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সমাজের সকল শ্রেণির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অস্থায়ী প্রসপেক্টাস কমিটি গঠন করা হয়।

জনসাধারণ, বিশেষ করে দরিদ্র কৃষকরা, স্বেচ্ছায় কলেজ তহবিলে অনুদান প্রদান করেন। ১৯৪০ সালের ৯ জুন কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক বলেন:

“সিরাজগঞ্জের দরিদ্র কৃষকদের কৃতিত্ব যে তারা নিজেদের উদ্যোগে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। আমি সারা বাংলায় ঘুরে মানুষকে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাব—এত অল্প সময়ে শিক্ষার জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের এমন দৃষ্টান্ত বিরল।”

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর সহযোগিতায় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে যায়।

জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান মি. আব্দুর রশিদ মাহমুদ, বি.এল., এম.এল.এ. কলেজ হোস্টেল নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য অনুদান প্রদান করেন। মি. আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ, এম.এ., বি.এল., এম.এল.এ. বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কলেজের জন্য পৌর এলাকার মধ্যে ৬৬ বিঘা জমি প্রায় ১৫,০০০ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা হয়।

তৎকালীন সময়ে কলেজ ও হোস্টেল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। কলেজ ভবনের নিচতলার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ১৯৪১ সালের জুন মাস থেকে সেখানে পাঠদান শুরু হয়।

পরীক্ষার নাম: আই.এ.

যে বিষয়গুলোতে অধিভুক্তি ছিল:

  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. ইতিহাস
  4. নাগরিক বিদ্যার মৌলিক বিষয়
  5. যুক্তিবিদ্যা
  6. বাণিজ্যিক পাটিগণিত ও হিসাবরক্ষণ
  7. গণিত
  8. সংস্কৃত
  9. আরবি
  10. ফার্সি

বিষয় সমন্বয়

ইতিহাসের সঙ্গে গণিত ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয়ের সমন্বয় গ্রহণযোগ্য ছিল।


ভর্তির নিয়ম

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি উন্মুক্ত ছিল। কোনো শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো না এবং কারও ওপর কোনো ধরনের বৈষম্য আরোপ করা হতো না।

মাসিক টিউশন ফি ছিল মাত্র ৫ টাকা।

লেখাটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সিরাজগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৬:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। এই মহকুমা থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতো। বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন সিরাজগঞ্জের তৎকালীন এস.ডি.ও. মি. এ. এইচ. কুরাইশী, আই.সি.এস.

১৯৩০ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর সভাপতিত্বে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিরাজগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সমাজের সকল শ্রেণির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অস্থায়ী প্রসপেক্টাস কমিটি গঠন করা হয়।

জনসাধারণ, বিশেষ করে দরিদ্র কৃষকরা, স্বেচ্ছায় কলেজ তহবিলে অনুদান প্রদান করেন। ১৯৪০ সালের ৯ জুন কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক বলেন:

“সিরাজগঞ্জের দরিদ্র কৃষকদের কৃতিত্ব যে তারা নিজেদের উদ্যোগে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। আমি সারা বাংলায় ঘুরে মানুষকে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাব—এত অল্প সময়ে শিক্ষার জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের এমন দৃষ্টান্ত বিরল।”

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর সহযোগিতায় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে যায়।

জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান মি. আব্দুর রশিদ মাহমুদ, বি.এল., এম.এল.এ. কলেজ হোস্টেল নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য অনুদান প্রদান করেন। মি. আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ, এম.এ., বি.এল., এম.এল.এ. বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কলেজের জন্য পৌর এলাকার মধ্যে ৬৬ বিঘা জমি প্রায় ১৫,০০০ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা হয়।

তৎকালীন সময়ে কলেজ ও হোস্টেল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। কলেজ ভবনের নিচতলার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ১৯৪১ সালের জুন মাস থেকে সেখানে পাঠদান শুরু হয়।

পরীক্ষার নাম: আই.এ.

যে বিষয়গুলোতে অধিভুক্তি ছিল:

  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. ইতিহাস
  4. নাগরিক বিদ্যার মৌলিক বিষয়
  5. যুক্তিবিদ্যা
  6. বাণিজ্যিক পাটিগণিত ও হিসাবরক্ষণ
  7. গণিত
  8. সংস্কৃত
  9. আরবি
  10. ফার্সি

বিষয় সমন্বয়

ইতিহাসের সঙ্গে গণিত ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয়ের সমন্বয় গ্রহণযোগ্য ছিল।


ভর্তির নিয়ম

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি উন্মুক্ত ছিল। কোনো শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো না এবং কারও ওপর কোনো ধরনের বৈষম্য আরোপ করা হতো না।

মাসিক টিউশন ফি ছিল মাত্র ৫ টাকা।