বাংলাদেশের দুগ্ধ বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র

মিল্কভিটা সিরাজগঞ্জ

রেজওয়ান
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সিরাজগঞ্জ এর সর্বশেষ ও জনপ্রিয় লেখা অনুসরণ করতে গুগল নিউজফিড দেখুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিল্কভিটা হলো Bangladesh Milk Producers Co-operative Union Limited (BMPCUL) পরিচালিত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের একটি স্বনামধন্য ট্রেডমার্ক। সমবায় ব্যবস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দুধ সংগ্রহ করে শহর ও নগরবাসীর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

 

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার সবচেয়ে বড় কারখানাটি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে অবস্থিত। এ কারখানায় কেবল দুধ প্রক্রিয়াজাতই নয়, পাশাপাশি ঘি, মাখন, দই, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের মানসম্মত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়।

 

মিল্কভিটায় ব্যবহৃত মোট দুধের প্রায় ৮০ শতাংশই সংগ্রহ করা হয় শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের নিজস্ব দুগ্ধ খামার থেকে। বর্তমানে এ অঞ্চলে মিল্কভিটার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৮,৪৬৮টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামারে উন্নত জাতের গাভী পালন করা হয়, যাদের কোনো কোনোটি থেকে দিনে প্রায় ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। দুধ উৎপাদনের এই প্রাচুর্যের ফলে এলাকায় দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।

 

বর্তমানে BMPCUL দেশের ছয়টি প্রধান দুধ উৎপাদক অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অঞ্চল হলো—টাঙ্গাইল, টেকেরহাট, বাঘাবাড়ি, রংপুর ও শ্রীনগর। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব প্রাথমিক সমবায় সমিতির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে থাকে। সদস্যরা প্রতিদিন দুইবার করে সমিতিতে দুধ সরবরাহ করেন এবং নগদ অর্থের বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজার–বার অনুযায়ী সাপ্তাহিক পরিশোধ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক।

 

দুধে বিদ্যমান চর্বি ও অন্যান্য গুণগত উপাদানের অনুপাত অনুযায়ী দুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সমবায় সমিতিতে সংগৃহীত দুধ প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিকটস্থ কারখানাগুলোতে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল, টেকেরহাট ও শ্রীনগর অঞ্চলের দুধ ঢাকায় এনে তরল দুধ, আইসক্রিম ও দই তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বাঘাবাড়ি ঘাটের দুধ ব্যবহৃত হয় বাঘাবাড়ি ডেইরি কারখানায়, যেখানে গুঁড়াদুধ, মাখন, দই ও ঘি উৎপাদন করা হয়।

আরো পড়ুন: সিরাজগঞ্জ জেলার নামকরণ ও প্রশাসনিক ইতিহাস

BMPCUL-এর উৎপাদিত সব দুগ্ধজাত পণ্যই বাজারজাত করা হয় দেশের জনপ্রিয় ও আস্থা অর্জনকারী ‘মিল্কভিটা’ ট্রেডমার্কের অধীনে। কৃষক–ভিত্তিক সমবায় ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিল্কভিটা আজ বাংলাদেশের দুগ্ধ শিল্পের অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত।

লেখাটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের দুগ্ধ বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র

মিল্কভিটা সিরাজগঞ্জ

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মিল্কভিটা হলো Bangladesh Milk Producers Co-operative Union Limited (BMPCUL) পরিচালিত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের একটি স্বনামধন্য ট্রেডমার্ক। সমবায় ব্যবস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দুধ সংগ্রহ করে শহর ও নগরবাসীর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

 

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার সবচেয়ে বড় কারখানাটি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে অবস্থিত। এ কারখানায় কেবল দুধ প্রক্রিয়াজাতই নয়, পাশাপাশি ঘি, মাখন, দই, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের মানসম্মত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়।

 

মিল্কভিটায় ব্যবহৃত মোট দুধের প্রায় ৮০ শতাংশই সংগ্রহ করা হয় শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের নিজস্ব দুগ্ধ খামার থেকে। বর্তমানে এ অঞ্চলে মিল্কভিটার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৮,৪৬৮টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামারে উন্নত জাতের গাভী পালন করা হয়, যাদের কোনো কোনোটি থেকে দিনে প্রায় ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। দুধ উৎপাদনের এই প্রাচুর্যের ফলে এলাকায় দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।

 

বর্তমানে BMPCUL দেশের ছয়টি প্রধান দুধ উৎপাদক অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অঞ্চল হলো—টাঙ্গাইল, টেকেরহাট, বাঘাবাড়ি, রংপুর ও শ্রীনগর। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব প্রাথমিক সমবায় সমিতির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে থাকে। সদস্যরা প্রতিদিন দুইবার করে সমিতিতে দুধ সরবরাহ করেন এবং নগদ অর্থের বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজার–বার অনুযায়ী সাপ্তাহিক পরিশোধ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক।

 

দুধে বিদ্যমান চর্বি ও অন্যান্য গুণগত উপাদানের অনুপাত অনুযায়ী দুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সমবায় সমিতিতে সংগৃহীত দুধ প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিকটস্থ কারখানাগুলোতে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল, টেকেরহাট ও শ্রীনগর অঞ্চলের দুধ ঢাকায় এনে তরল দুধ, আইসক্রিম ও দই তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বাঘাবাড়ি ঘাটের দুধ ব্যবহৃত হয় বাঘাবাড়ি ডেইরি কারখানায়, যেখানে গুঁড়াদুধ, মাখন, দই ও ঘি উৎপাদন করা হয়।

আরো পড়ুন: সিরাজগঞ্জ জেলার নামকরণ ও প্রশাসনিক ইতিহাস

BMPCUL-এর উৎপাদিত সব দুগ্ধজাত পণ্যই বাজারজাত করা হয় দেশের জনপ্রিয় ও আস্থা অর্জনকারী ‘মিল্কভিটা’ ট্রেডমার্কের অধীনে। কৃষক–ভিত্তিক সমবায় ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিল্কভিটা আজ বাংলাদেশের দুগ্ধ শিল্পের অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত।