রক্তাক্ত ১৩ নভেম্বর: তাড়াশের আমবাড়িয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা
প্রতিশোধের আগুনে ছাই হয়েছিল একটি গ্রাম
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ৯৯১ বার পড়া হয়েছে
আজ ১৩ নভেম্বর – সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আমবাড়িয়া গণহত্যা দিবস
আজ ১৩ নভেম্বর। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে সংঘটিত এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একের পর এক যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কাপুরুষের মতো নিরস্ত্র সাধারণ গ্রামবাসীর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে উত্তরাঞ্চলের বেসরকারি সাব-সেক্টর কমান্ড পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের পরিচালক এবং সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত গাজী এম এম আমজাদ হোসেন মিলনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় এক কোম্পানি পাকসেনা এবং অর্ধশতাধিক রাজাকার নিহত হয়।
আরো পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জ জেলার নামকরণ ও প্রশাসনিক ইতিহাস
নওগাঁ যুদ্ধে ভয়াবহ পরাজয়ের ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই দু’দিন পর, অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর, পার্শ্ববর্তী মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে নৃশংস হামলা চালায় পাক হানাদার বাহিনী। তারা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ আমবাড়িয়া গ্রাম পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে।
সেদিন হানাদার বাহিনী গ্রাম থেকে নিরীহ মানুষদের ধরে এনে একত্র করে। পরে দোবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ ইয়ার মাহমুদসহ ১৪ জন সাধারণ গ্রামবাসীকে জীবন্ত পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বর্বর হত্যাযজ্ঞে আমবাড়িয়ার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে মানুষের আর্তচিৎকারে, আর মাটিতে মিশে যায় নিরীহ মানুষের রক্ত।
এই ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদ হন—
আমবাড়িয়া গ্রামের সুলতান শেখ, তাঁর ছেলে মফিজ উদ্দিন শেখ, আব্দুর রহমান, জুব্বার ফকির, দোবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ ইয়ার মাহমুদ, মেহের আলী, মোক্তার হোসেন, আব্দুর রহমান, আমিন উদ্দিন প্রামাণিক, ফজলার রহমান, কিয়ামত আলী প্রামাণিক, মজিবর রহমান, ওসমান আলী প্রামাণিক ও দেছের আলী প্রামাণিক।
আমবাড়িয়া গণহত্যা পাকিস্তানি বাহিনীর সেই চিরচেনা বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার এক নির্মম দলিল। এটি কেবল একটি গ্রামের ইতিহাস নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার সাধারণ মানুষের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মদানের এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
আজ এই শোকাবহ দিনে আমরা আমবাড়িয়া গণহত্যার সকল শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের রক্তের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। তাঁদের আত্মত্যাগ কখনোই বিস্মৃত হওয়ার নয়।
আমবাড়িয়া গণহত্যার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।














