ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য

শাহজাদপুর শাহী মসজিদ

রেজওয়ান
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭৫৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সিরাজগঞ্জ এর সর্বশেষ ও জনপ্রিয় লেখা অনুসরণ করতে গুগল নিউজফিড দেখুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সদর এলাকার শেষ প্রান্তে দরগাপাড়া মহল্লায়, হুড়াসাগর নদের তীরে অবস্থিত শাহজাদপুর শাহী মসজিদ এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। স্থানীয় বিশ্বাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, পঞ্চদশ শতকে প্রখ্যাত সুফি সাধক হজরত মখদুম শাহ (রহ.) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। যদিও কোনো শিলালিপি বা লিখিত প্রমাণের অভাবে এর সঠিক নির্মাণকাল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তবুও মসজিদের স্থাপত্য রীতি ও অলংকরণ শৈলী বিশ্লেষণ করে ইতিহাসবিদরা একে ১৫ শতকের স্থাপনা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

 

শাহজাদপুর মসজিদটি একটি বহুগম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ। এর ছাদে তিন সারিতে পাঁচটি করে মোট ১৫টি গম্বুজ স্থাপিত, যা এটিকে বাংলার প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্যের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯.১৩ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ প্রায় ১২.৬০ মিটার। অভ্যন্তরীণ অংশে দৈর্ঘ্য ১৫.৭৭ মিটার ও প্রস্থ ৯.৬০ মিটার, যেখানে দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৫৭ মিটার।

 

স্থাপত্য বিন্যাসের দিক থেকে মসজিদটি কিবলা প্রাচীর বরাবর পাঁচটি স্তম্ভপথ (বে) এবং উত্তর-দক্ষিণে তিনটি স্তম্ভপথে বিভক্ত। এর ফলে ভেতরের অংশ মোট ১৫টি চতুর্ভুজাকৃতির কক্ষে বিভক্ত হয়েছে, যা গম্বুজধারী মসজিদের প্রচলিত নকশাকে প্রতিফলিত করে।

আরো পড়ুন: মখদুম শাহ দৌলাহ (রহ.)–এর মাজার

বাংলাদেশে অবস্থিত প্রাচীনতম মসজিদগুলোর অন্যতম শাহজাদপুর শাহী মসজিদে প্রাথমিক সুলতানি আমলে বিকশিত মসজিদ স্থাপত্যের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব ও স্থাপত্য সৌন্দর্যের সম্মিলনে এ মসজিদ আজও বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সাক্ষ্য বহন করে।

 

লেখাটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য

শাহজাদপুর শাহী মসজিদ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সদর এলাকার শেষ প্রান্তে দরগাপাড়া মহল্লায়, হুড়াসাগর নদের তীরে অবস্থিত শাহজাদপুর শাহী মসজিদ এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। স্থানীয় বিশ্বাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, পঞ্চদশ শতকে প্রখ্যাত সুফি সাধক হজরত মখদুম শাহ (রহ.) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। যদিও কোনো শিলালিপি বা লিখিত প্রমাণের অভাবে এর সঠিক নির্মাণকাল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তবুও মসজিদের স্থাপত্য রীতি ও অলংকরণ শৈলী বিশ্লেষণ করে ইতিহাসবিদরা একে ১৫ শতকের স্থাপনা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

 

শাহজাদপুর মসজিদটি একটি বহুগম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ। এর ছাদে তিন সারিতে পাঁচটি করে মোট ১৫টি গম্বুজ স্থাপিত, যা এটিকে বাংলার প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্যের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯.১৩ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ প্রায় ১২.৬০ মিটার। অভ্যন্তরীণ অংশে দৈর্ঘ্য ১৫.৭৭ মিটার ও প্রস্থ ৯.৬০ মিটার, যেখানে দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৫৭ মিটার।

 

স্থাপত্য বিন্যাসের দিক থেকে মসজিদটি কিবলা প্রাচীর বরাবর পাঁচটি স্তম্ভপথ (বে) এবং উত্তর-দক্ষিণে তিনটি স্তম্ভপথে বিভক্ত। এর ফলে ভেতরের অংশ মোট ১৫টি চতুর্ভুজাকৃতির কক্ষে বিভক্ত হয়েছে, যা গম্বুজধারী মসজিদের প্রচলিত নকশাকে প্রতিফলিত করে।

আরো পড়ুন: মখদুম শাহ দৌলাহ (রহ.)–এর মাজার

বাংলাদেশে অবস্থিত প্রাচীনতম মসজিদগুলোর অন্যতম শাহজাদপুর শাহী মসজিদে প্রাথমিক সুলতানি আমলে বিকশিত মসজিদ স্থাপত্যের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব ও স্থাপত্য সৌন্দর্যের সম্মিলনে এ মসজিদ আজও বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সাক্ষ্য বহন করে।